জুমআর দিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ: কতগুলো আপনি নিয়মিত পালন করেন?
প্রতি সপ্তাহে একটি দিন আছে, যাকে আল্লাহ তাআলা অন্য সব দিনের তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। সেটি হলো জুমআর দিন।
রাসূল ﷺ এই দিনকে মুসলিমদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অথচ ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই জুমআর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ভুলে যাই।
এই ছোট্ট গাইডে জুমআর দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ তুলে ধরা হলো।
১. গোসল করা
জুমআর দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো গোসল করা।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"জুমআর দিনে গোসল করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"
এটি শুধু পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়, বরং আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হওয়ার প্রস্তুতিও।
২. সুগন্ধি ব্যবহার করা (পুরুষদের জন্য)
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুগন্ধি ব্যবহার করাও সুন্নাহ।
তবে নারীরা বাইরে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না।
৩. পরিষ্কার ও উত্তম পোশাক পরা
জুমআর দিনটি সম্মান ও সৌন্দর্যের দিন।
সম্ভব হলে সবচেয়ে পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরুন।
৪. সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা
জুমআর দিনে সূরা কাহফ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সূরা কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময় আলোয় আলোকিত হবে।"
৫. বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করা
জুমআর দিনে রাসূল ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
৬. সময়মতো মসজিদে যাওয়া
যত আগে সম্ভব মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
আগে পৌঁছালে বেশি ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার সুযোগ হয়।
৭. খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা
খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা বা মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
৮. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খোঁজা
জুমআর দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
তাই পুরো দিন জুড়েই বেশি বেশি দোয়া করুন।
৯. কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির বৃদ্ধি করা
জুমআ শুধু একটি নামাজ নয়।
এটি পুরো দিনটিকে ইবাদতে সমৃদ্ধ করার একটি সুযোগ।
১০. আত্মসমালোচনা ও নতুনভাবে শুরু করা
এক সপ্তাহে আমরা অনেক ভুল করি।
জুমআ হতে পারে নিজের আমল, সম্পর্ক ও আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ নতুনভাবে গড়ে তোলার দিন।
আজ থেকেই একটি অভ্যাস গড়ে তুলুন
সব সুন্নাহ একদিনে শুরু করা কঠিন মনে হতে পারে।
তবে প্রতি সপ্তাহে একটি করে অভ্যাস যোগ করুন।
এক বছর পর ফিরে তাকালে দেখবেন, আপনার জুমআ অনেক বদলে গেছে।
